পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে সোমবার পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল। এই সংশোধনের মাধ্যমে দেশটির সেনাপ্রধানের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার সীমিত করা হবে। সমালোচকরা বলছেন, এই পরিবর্তন পাকিস্তানের গণতন্ত্রকে দুর্বল করে সামরিক প্রভাব আরও গভীর করবে। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে সামরিক হস্তক্ষেপপ্রবণ পাকিস্তানে বর্তমানে নির্বাচিত সরকারের শাসন চললেও সেনাবাহিনীর প্রভাব আগের চেয়ে বেড়েছে। বিরোধী দল বয়কট করার পর মাত্র তিন ঘণ্টার আলোচনায় সিনেটে বিলটি পাস হয়। এখন এটি নিম্নকক্ষে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে পাস হলেই তা আইনে পরিণত হবে।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে “প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান” হিসেবে নতুন ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিমান ও নৌবাহিনীর ওপরও সর্বময় নিয়ন্ত্রণ পাবেন। মেয়াদ শেষে পদমর্যাদা বজায় থাকবে এবং আজীবন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। এ পদক্ষেপকে অনেকে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বৈধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
আরও
একই সঙ্গে নতুন সংশোধনীর অধীনে সুপ্রিম কোর্ট থেকে সাংবিধানিক মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা সরিয়ে দেওয়া হবে। এসব মামলা শুনানি করবে নতুন করে গঠিত “ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত”, যেখানে বিচারক নিয়োগ দেবে সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন আদালতের স্বাধীনতা খর্ব করবে এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলাগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে।
এ সংশোধনীর আওতায় প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিকেও আজীবনের জন্য মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। সরকার বলছে, ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের প্রয়োজনেই এই সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সরকার বিলটি সহজেই পাস হবে বলে আত্মবিশ্বাসী। তবে বিরোধীরা বলছেন, এটি দেশকে “সামরিক নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রে” পরিণত করবে।












