আন্তর্জাতিক পরিভ্রমণ শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনকারী যাত্রীদের জন্য ব্যাগেজ রুলস-এর আওতায় শুল্কমুক্ত পণ্য আনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী রয়েছে। বিশেষ করে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বা উপহার হিসেবে মোবাইল ফোন সেট ক্রয়ের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সীমা এবং অতিরিক্ত পণ্য আনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর কাঠামো সম্পর্কে যাত্রীদের অবহিত থাকা জরুরি।
শুল্কমুক্ত সুবিধায় কতটি ডিভাইস আনা যাবে?
যাত্রী (অপর্যটক) ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশফেরত একজন যাত্রী সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় মোট তিনটি মোবাইল ফোন আনতে পারবেন। এই সুবিধাটি নিম্নরূপ:
একটি অব্যবহৃত (নতুন) মুঠোফোন।
আরও
দুটি ব্যবহারিক (ব্যবহৃত) মুঠোফোন।
অর্থাৎ, নিজের ব্যবহার করা দুটি ডিভাইসের পাশাপাশি কেবল একটি নতুন ফোন শুল্কমুক্তভাবে আনা যাবে। এই সীমার অতিরিক্ত নতুন ডিভাইস নিয়ে এলে যাত্রীকে অবশ্যই শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হবে।


অতিরিক্ত নতুন ফোনের ক্ষেত্রে শুল্ক-কর কাঠামো
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক নির্ধারিত শুল্ক বিভাগ সূত্র অনুসারে, যদি কোনো যাত্রী অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত নতুন ডিভাইস নিয়ে আসেন, তবে সে ক্ষেত্রে ডিভাইসের মূল্যের ভিত্তিতে নিম্নরূপ করভার আরোপিত হবে:
মুঠোফোনের মূল্য (টাকা) প্রযোজ্য শুল্ক-কর (টাকা)
৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক-কর -৫,০০০ টাকা
৩০,০০১ থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক-কর ১০,০০০ টাকা
৬০,০০০ টাকার বেশি ২৫,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ)
কড়াকড়ি শিথিল করার সুপারিশ জানাল বিটিআরসি
মুঠোফোন আমদানিতে ব্যাগেজ রুলসের আওতায় বিদ্যমান কঠোর নীতির কারণে অবৈধ পথে বিপুল সংখ্যক ডিভাইস বাজারে প্রবেশ করছে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করছে। জানা যায়, এই কড়াকড়ির ফলে অবৈধ পথে প্রচুর ফোন সেটের সরবরাহ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়ে এই আমদানি শুল্কের হার যৌক্তিকভাবে হ্রাস করার জন্য জোর সুপারিশ করেছে, যাতে চোরাচালান প্রতিরোধ করা যায়।
শুল্কমুক্ত ও শুল্কসাপেক্ষে আমদানিকৃত অন্যান্য সামগ্রী
মুঠোফোন ছাড়াও ব্যাগেজ রুলসের পরিধি অনুযায়ী, বিদেশফেরত একজন যাত্রী মোট ১৯ ধরনের পণ্য সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে এবং ১১ ধরনের পণ্য শুল্ক-কর পরিশোধ সাপেক্ষে সঙ্গে আনতে পারেন।


শুল্কমুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত কয়েকটি পণ্য (মোট ১৯টি):
দুটি ব্যবহৃত ও একটি নতুন মোবাইল ফোন।
১৫ বর্গমিটার আয়তনবিশিষ্ট কার্পেট।
২৯ ইঞ্চি পর্যন্ত টেলিভিশন।
ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটার, স্ক্যানার ও প্রিন্টার।
ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল বা ডিজিটাল ক্যামেরা।
ওভেন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার ও গ্যাস ওভেন।
বিভিন্ন প্রকার ছোট কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স (টোস্টার, ব্লেন্ডার, স্যান্ডউইচ মেকার ইত্যাদি)।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য খেলার সামগ্রী, সেলাই মেশিন, টেবিল ফ্যান।
১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালঙ্কার (গয়না)।
এক কার্টন সিগারেট ও সিডি/স্পিকারসহ মিউজিক সিস্টেম।


শুল্ক-কর পরিশোধ সাপেক্ষে আমদানিকৃত কয়েকটি পণ্য (মোট ১১টি):
স্বর্ণবার: ১১৭ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের স্বর্ণবার আমদানিতে ৪০,০০০ টাকা শুল্ক-কর দিতে হবে।
রৌপ্যবার: ২৩৪ গ্রাম বা ২০ তোলা পর্যন্ত রৌপ্যবার আনা যাবে।
বড় আকারের টেলিভিশন: ৩০ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় আকারের টিভি।
হোম থিয়েটার, রেফ্রিজারেটর বা ডিপ ফ্রিজার, এয়ারকন্ডিশনার (এসি), ডিশ অ্যানটেনা।
এইচডি ক্যামেরা ও ঝাড়বাতি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে এয়ারগান।
ডিশওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন বা ক্লথ ড্রায়ার।
এই তালিকায় উল্লিখিত পণ্যগুলোর জন্য ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হতে পারে।












