মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে এক প্রবাসীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও র্যাব সদস্যসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের সাভার ও শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
রোববার (৯ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন ঢাকা মহানগর ডিবিতে কর্মরত এবং তিনজন সেনাবাহিনী থেকে প্রেষণে র্যাবে কর্মরত আছেন। বাকি দুইজনের মধ্যে একজন গাড়িচালক ও আরেকজনের বাড়ি থেকে লুটের টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শ্রীনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আকাশ অসীম (৪৮) গত ৭ নভেম্বর সকালে শ্রীনগরের রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের তিন দোকান এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন। এর আগের দিন তিনি স্থানীয় ‘শ্রীনগর স্বর্ণালয়’ দোকানে ২১ ক্যারেটের ৩৯ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করে ৬৫ লাখ টাকা পান। পরদিন সকালে সেই টাকাসহ ভাই বিমল চন্দ্র দাসকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জয়পাড়ার উদ্দেশে রওনা দেন।
আরও
পথে সকাল ৭টার দিকে নাম্বারবিহীন একটি সাদা মাইক্রোবাস তাদের গতিরোধ করে। গাড়ি থেকে নেমে ৮-৯ জন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন এবং অভিযোগ দেখানোর অজুহাতে দুই ভাইকে মারধর করে ৬৫ লাখ টাকার ব্যাগসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাদের হাতকড়া পরিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। কিছু দূর যাওয়ার পর আকাশ অসীমকে পদ্মা সেতুর পুরনো ফেরিঘাটে ফেলে দেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর তার ভাইকেও টোলপ্লাজার কাছে নামিয়ে দেওয়া হয়।
শ্রীনগর থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান জানান, আটকদের থানায় আনা হচ্ছে এবং তাদের নাম-পরিচয় যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পুলিশের ও র্যাবের সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও লুট হওয়া টাকার দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।










