গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিন পরই নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। সোমবার গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের শিজাইয়া এলাকায় পাঁচজন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, নিহতরা যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে সেনারা যে ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত সরে গিয়েছিল, সেই সীমা অতিক্রম করেছিলেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এই সীমার অবস্থান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে কোনোভাবে অবহিত করা হয়নি।
আইডিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির পর সেনারা গাজার অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট একটি সীমারেখায় অবস্থান নিয়েছে, যেটিকে তারা ‘হলুদ সীমা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু ওই সীমার সুনির্দিষ্ট অবস্থান না জানায়, সাধারণ মানুষ অনিচ্ছাকৃতভাবেই সেখানে প্রবেশ করতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, শিজাইয়া এলাকায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি তাদের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। প্রথমে সতর্কবার্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরও তারা না থামায়, সেনারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালায়। তবে নিহতদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল কি না—সে বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো তথ্য দেয়নি।
আরও
এ ঘটনায় গাজার বাসিন্দাদের উদ্দেশে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে আইডিএফ। তারা জানিয়েছে, “আমাদের সেনাদের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন এবং সতর্কবার্তা মেনে চলুন।”
উল্লেখ্য, শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হামাস ২০ জন জীবিত ও চারজন মৃত ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে। এর বিপরীতে ইসরায়েল মুক্তি দিয়েছে দুই হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে। কিন্তু এর মধ্যেই নতুন করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।













