ইরান একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে ছয় সৌদি নাগরিকসহ সাত রাজনৈতিক বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) দেশটির বিচার বিভাগের মুখপাত্র সংস্থা মিজান নিউজ জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ইরানের চার নিরাপত্তা সদস্য ও এক ধর্মীয় ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ ছিল। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের খোররামশাহরে সশস্ত্র ও বোমা হামলার অভিযোগে ছয়জন জাতিগত আরব বিচ্ছিন্নতাবাদীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যেখানে চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন। এ ছাড়া সপ্তম ব্যক্তি সামান মোহাম্মদী খিয়ারেহ একজন কুর্দি নাগরিক, যিনি ২০০৯ সালে এক সুন্নি ধর্মীয় নেতাকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, এই বন্দীরা ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, তেহরান প্রায়ই জাতিগত সংখ্যালঘু বা সরকারবিরোধীদের বিদেশি শক্তির সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচার করে, যাতে কঠোর দমননীতি বৈধতা পায়। বিশেষ করে সামান মোহাম্মদীর মামলায় অভিযোগ উঠেছে, তাকে অল্প বয়সে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়—যা ইরানি বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের রীতি।
আরও
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ইরান ১,০০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে—যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সংগঠনটি বলেছে, এসবের বেশিরভাগই রাজনৈতিক বা মতবিরোধজনিত মামলা, যেগুলোকে সরকার ‘বিদেশি প্রভাবিত’ বা ‘ইসরায়েলি এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে।
রাজনৈতিক বন্দীদের দলগতভাবে ফাঁসি দেওয়ার ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইএইচআরএনজিও (IHRNGO) কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থার পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোঘাদ্দাম বলেন, “এই মৃত্যুদণ্ডগুলো ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভয় ও দমননীতির অংশ। ন্যায্য বিচার ছাড়া কারও জীবন নেওয়া মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে।”











