মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধ থামাতে ২০ দফার একটি প্রস্তাব রেখেছেন, যা ইসরায়েল ও হামাস দু’পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগে সম্মতি জানিয়েছে—তবে কূটনীতিকেরা আশঙ্কা করছেন এর পেছনে গাজা অঞ্চলটির ওপর বহির্জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বা আঞ্চলিক দখলের পরিকল্পনা লুকিয়ে থাকতে পারে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজাকে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠন করে ভূমধ্যসাগরের কোলমুখে একটি বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে—কিছু বিশ্লেষক এটাকে “দ্বিতীয় দুবাই” করার স্বপ্ন বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
পরিকল্পনার সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ‘বোর্ড অব পিস’—যার তত্বাবধানে থাকবেন ট্রাম্প ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, যাদের উভয়ের ইসরায়েল-সম্পর্কিত ভাবমূর্তি নির্ধারক বলে ধরা হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বোর্ডের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ একপক্ষীয় ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একইসঙ্গে পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, তাদের কমান্ডবেস সরিয়ে ফেলা ও একটি অন্তর্বর্তী আন্তর্জাতিক প্রশাসন গঠনের কথাও রয়েছে; কিন্তু সেই প্রশাসনে কারা থাকবেন—এ ব্যাপারে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ট্রাম্পের নকশা অনুযায়ী গাজায় একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে, যারা স্থানীয় পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং সাময়িকভাবে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে—ফলে কার্যত নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হেফাজতে চলে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসন পুনর্গঠনের পর তত্ত্বাবধান হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে কীভাবে এবং কবে তা হবে তা অনিশ্চিত হয়ে থাকে।
আরও
কৌশলগত কারণে গাজা ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ—ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার সংযোগস্থল হওয়ায় একে বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপ দিলেই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লাভে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা দেখেন; একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। তবু বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে রয়ে গেছে হামাসের অনিকেত প্রতিরোধ: তারা চায় গাজার শাসন একটি স্বাধীন প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর হোক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দাবি তুলতে পারে—ফলে হামাসকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না।
প্রস্তাবে বন্দিমুক্তি ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত ইতিবাচক ধারা রয়েছে—হামাসের সম্মতিতে ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি ও আটক প্যালেস্টাইনের বন্দিদের ছাড়া, পাশাপাশি হাসপাতাল, সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা জানা গেছে। তবু প্রশ্ন জাগে: এই চুক্তি বাস্তবে স্থায়ী শান্তি আনবে নাকি গাজাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত ঘাঁটিতে পরিণত করার আরেক ধাপে পরিণত হবে—এটিই এখন মূল অনিশ্চয়তা।












