রবিবার সন্ধ্যায় এক বিরল ও মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকলো ওমানের অগণিত মানুষ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের বাড়ির বাইরে, খোলা জায়গায় এবং ভবনের ছাদে ভিড় জমান। এই বিশেষ মুহূর্তটি উপভোগ করার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল দেখা যায়।

মাস্কাটের সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে উপচ্ছায়া গ্রহণ শুরু হওয়ার মাধ্যমে এই চন্দ্রগ্রহণের সূচনা হয়। এরপর রাত ৮টা ২৭ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শুরু হয় এবং অবশেষে রাত ৯টা ৩১ মিনিটে চাঁদ সম্পূর্ণরূপে পৃথিবীর ছায়ায় প্রবেশ করে পূর্ণগ্রাস পর্বে পৌঁছায়।
আরও
পূর্ণগ্রাস চলাকালীন চাঁদ প্রায় এক ঘণ্টার জন্য গভীর রক্তিম বা সিঁদুরে আভা ধারণ করে, যার কারণেই এই ঘটনাটি ‘ব্লাড মুন’ বা ‘রক্তিম চাঁদ’ নামেও পরিচিত। রাতের আকাশে এই অপার্থিব দৃশ্য উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা মোটেও বিপজ্জনক নয়। সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হলেও, চন্দ্রগ্রহণের সৌন্দর্য কোনো বিশেষ চশমা বা সরঞ্জাম ছাড়াই নিরাপদে উপভোগ করা যায়। এই দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন স্থানে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপ ও বড় পর্দার আয়োজন করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের আকাশেও দারুণভাবে ধরা দিয়েছে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। ভিড় জমে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে। দুবাইতে আয়োজন করা হয় বিশেষ ক্যাম্প, যেখানে চাঁদ আর বুর্জ খলিফার একই ফ্রেমে ছবি তোলেন আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফাররা। অন্যদিকে ভারত, চীন আর আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চল থেকেও একেবারে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে এ ব্লাড মুন।











