যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ওয়েস্ট ভ্যালির একটি বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকা এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এ অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদান করে থাকে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে অনলাইন ফক্স ১০ ফিনিক্স।
এতে আদালতের নথি উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২৪ বছর বয়সী শিক্ষিকা শার্লট হিউজবির বিরুদ্ধে নাবালক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয় ২৮ আগস্ট। সেদিন অস্টিন সেন্টারস ফর এক্সেপশনাল স্টুডেন্টস (এসিইএস) পিওরিয়া ক্যাম্পাসে পুলিশকে ডাকা হয়। সেখানকার সুপারিনটেনডেন্ট ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ও হিউজবির মধ্যে ‘অশোভন টেক্সট মেসেজ’ আবিষ্কার করেন।
হিউজবি সেখানে থেরাপিউটিক সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এক শিক্ষার্থী কাউন্সেলিং সেশনে জানান যে ভুক্তভোগী তাকে জানিয়েছে, তার সঙ্গে এক শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক রয়েছে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে একটি ভিডিওও উদ্ধার করা হয়। তাতে তাকে হিউজবির সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াতে দেখা যায়।
আরও
আরেক শিক্ষার্থী জানান, একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ চ্যাটে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই হিউজবিকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা প্রথমে ভেবেছিলেন, তার সন্তানের সঙ্গে ‘অ্যাঞ্জি’ নামের ১৮ বছর বয়সী এক মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে। তবে পরে তিনি জানতে পারেন, সেই ‘অ্যাঞ্জি’ আসলে শিক্ষিকা হিউজবি। শিক্ষার্থীর পিতা আরও জানান, ২০২৪ সাল থেকে তার সন্তান প্রায় প্রতি সপ্তাহান্তেই হিউজবির সঙ্গে থেকেছে এবং ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালীন ছুটির বেশিরভাগ সময়ও তার সঙ্গেই কাটিয়েছে। তিনি কোনোভাবেই জানতেন না যে হিউজবি আসলে ২৪ বছর বয়সী এবং তার সন্তানের স্কুলের একজন শিক্ষিকা।
ভুক্তভোগী ফরেনসিক সাক্ষাৎকারে পুলিশের কাছে জানায়, স্কুলে পরিচয়ের কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই তাদের সম্পর্ক শুরু হয় এবং নিয়মিত যৌন সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে হিউজবি একটি হোটেল রুম ভাড়া নিয়ে তাকে সেখানে ডাকেন, তাদের সম্পর্ক ভিডিওতে ধারণ করেন এবং এমনকি বলেন- সে যেন তাকে মা হতে বা সন্তান জন্মদানে সহায়তা করে।
৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ হিউজবির সঙ্গে কথা বলে এবং তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ বার যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নথি অনুযায়ী, হিউজবি ছয় বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আগে কখনও কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এক বিবৃতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৮শে আগস্ট আমরা একজন কর্মী ও এক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুলের বাইরে ও সময়ের বাইরে সম্ভাব্য অসদাচরণের খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাই, ওই নারী কর্মী বা শিক্ষিকার চাকরি স্থগিত করি এবং পূর্ণ তদন্ত শুরু করি।
২৯ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ৩ সেপ্টেম্বর স্কুল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, পুলিশ ইতোমধ্যে তাকে হেফাজতে নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৩০ বছর ধরে যেভাবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে, ভবিষ্যতেও সেই নীতি অটুট থাকবে











