কুয়েতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের শাস্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। কারাদণ্ডের পরিবর্তে দোষীদের সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারি গেজেট কুয়েত টুডে-তে প্রকাশ করেন দেশটির প্রথম উপ–প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল–ইউসুফ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিচারক চাইলে নির্দিষ্ট ট্রাফিক অপরাধে কারাবাসের পরিবর্তে বিকল্প শাস্তি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমে যুক্ত করতে পারবেন অপরাধীদের। কুয়েতের আইনব্যবস্থায় এটিকে একটি আধুনিক ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খবরে জানা গেছে, বিকল্প শাস্তির আওতায় দোষীদের ১৬টি সরকারি সংস্থার অধীনে কাজে লাগানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে—উপকূল পরিষ্কার, বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য অপসারণ, কবরস্থান খনন, মসজিদ পরিষ্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখা, সচেতনতামূলক প্রচারণা, বিদ্যুৎ মিটার সংক্রান্ত কাজ, এমনকি গ্যাস স্টেশনে কাজ করা পর্যন্ত। শুধু শারীরিক শ্রম নয়, তাদের শিক্ষামূলক বক্তৃতা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমেও অংশ নিতে হবে।
আরও
এছাড়া, অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও দোষীর ওপর বর্তাবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বিকল্প শাস্তি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকবে সাধারণ ট্রাফিক বিভাগ। তবে কেউ শাস্তি মানতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে মূল কারাদণ্ড কার্যকর হবে।
কুয়েত সরকারের এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং ট্রাফিক অপরাধীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশটি ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও দেখুনঃ











