চট্টগ্রামের পটিয়ায় সাদিয়া আক্তার (২২) নামে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এরফান আলী মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং নিহতের শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে সাদিয়ার বিয়ে হয় পটিয়ার কায়ছার তানভীর অমির সঙ্গে। অমি বর্তমানে সৌদি আরবে প্রবাসী। তাদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে, বয়স মাত্র ১১ মাস। তবে স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন দেখা দেয়। এ কারণে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে সাদিয়ার প্রায় সময় ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের চাচাতো ভাই আবুল হোসেন জানান, স্বামী প্রবাসে থাকলেও সাদিয়া প্রায়ই দেনা-পাওনা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হতো। এদিকে নিহতের মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন সকালে মেয়ে ফোন করলেও ঘটনার দিন আর যোগাযোগ করেনি। দুপুরে শাশুড়ির কাছ থেকে অসুস্থতার খবর পেয়ে হাসপাতালে গেলে জানতে পারেন মেয়ে মারা গেছে। তার দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
আরও
অন্যদিকে নিহতের শ্বশুর আবদুল আজিজ বলেন, জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফিরে এসে দেখেন সাদিয়া কক্ষে দরজা বন্ধ করে রেখেছেন এবং ভেতরে নাতনি কান্না করছে। পরে দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সাদিয়াকে পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে নিহতের শ্বশুর ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।













