কুয়েত কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যাপক ভিসা সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন নীতির আওতায় বিশ্বের প্রায় সব দেশের নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশ সহজ হবে। তবে গাজায় সংঘটিত হামলা এবং দখলের কারণে ইসরায়েলের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন না।
জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব রেসিডেন্সির কর্নেল আব্দুল আজিজ আল কান্দারি ‘কুয়েত ভিসা প্ল্যাটফর্ম, নতুন প্রবেশ ভিসা’ শীর্ষক উপস্থাপনায় চার স্তরের নতুন ভিসা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংশোধিত কর্মসূচি ‘কুয়েত ভিসা’ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। নতুন ব্যবস্থায় ভিসার ধরন নির্ভর করবে আবেদনকারীর যোগ্যতা, জাতীয়তা এবং পেশার উপর।
ভিসার চারটি ধরন হলো:
১. সীমাবদ্ধ প্রবেশাধিকার: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ/শেনজেন, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্টধারীরা ছয় মাসের পাসপোর্ট বৈধতার বাইরে অতিরিক্ত প্রয়োজন ছাড়াই ভিসা পাবেন।
২. জিসিসি বাসিন্দা ও পেশাদাররা: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর বাসিন্দা এবং আর্থিক সক্ষম পেশাজীবীরা বৈধ বসবাসের প্রমাণ দেখালে ভিসা পাবেন।
৩. আর্থিক সচ্ছলতা রুট: অন্যান্য দেশের দর্শনার্থীরা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, হোটেল বুকিং ও নিরাপত্তা জমার মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন (বাস্তবায়ন এখনও মুলতুবি)।
৪. ইভেন্ট-নির্দিষ্ট ভিসা: আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা স্থানীয় ইভেন্টের জন্য কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে ভিসা প্রদান করা হবে।
আরও
ভিসার প্রবেশকাল এবং ধরনও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পর্যটন ভিসা একক বা একাধিক প্রবেশের জন্য ১-১২ মাস পর্যন্ত বৈধ থাকবে, প্রতি প্রবেশে ৩০ দিন থাকতে পারবে। ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে একক প্রবেশে ৩০ দিন এবং একাধিক প্রবেশের জন্য ১ বছরেরও বেশি সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্নেল আল কান্দারি জানান, নতুন নীতির সব সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তা এবং পর্যটন উন্নয়নের দিক বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কুয়েত একমাত্র উপসাগরীয় দেশ যেখানে ইসরায়েলের নাগরিকদের জন্য কোনো কূটনৈতিক বা ভ্রমণের ব্যবস্থা নেই। ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এখনও ব্যতিক্রম রয়েছে।










