রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। সোমবার (২১ জুলাই) বেলা ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনায় পড়ে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় চীনের তৈরি এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকা এসব পুরনো যুদ্ধবিমান এখনও কেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা। অনেকে জানতে চাইছেন, কেন আরও আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজন করা হচ্ছে না।
এ প্রেক্ষাপটে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে এসেছে—চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তান সফর করে। সে সময় পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে তারা চীন-পাকিস্তান যৌথভাবে নির্মিত আধুনিক জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
আরও
তবে এ উদ্যোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে ভারত, এমন তথ্য উঠে এসেছে মালয়েশিয়াভিত্তিক সামরিক বিষয়ক পোর্টাল ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া-এর এক প্রতিবেদনে। তাদের মতে, ভারত এই অস্ত্রচুক্তিকে কেবল বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে দেখছে না; বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের জন্য হুমকি মনে করছে।
জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানকে একটি ‘মাল্টি-রোল ফাইটার জেট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (PAC) ও চীনের চেঙ্গদু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রিজের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই বিমানটি সকল ঋতু ও সময় উপযোগী হামলার সক্ষমতা রাখে। এটি উচ্চতা থেকে হামলা, নিচুতে বোমাবর্ষণ, শত্রুর আকাশসীমায় ঢুকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ডগফাইটে অংশ নিতে সক্ষম।
ঘটনার পর শুধু বিমান দুর্ঘটনা নয়, বরং সামরিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠছে। সামরিক নিরাপত্তা ও নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন।












