২০২৪ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ওইদিন একটি বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটিই ছিল দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সূচনাবিন্দু।
আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ৫ জুন, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। রায়ে ২০১৮ সালে বাতিল হওয়া কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—এই সিদ্ধান্ত মেধাবীদের প্রতি অবিচার এবং তা পুরনো বৈষম্যমূলক কাঠামো ফিরিয়ে আনে। ৬ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
১ জুলাই সরকার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন পুনর্বহাল না করায় ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা একযোগে রাজপথে নেমে আসে। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত বিশাল মিছিল হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে।
আরও
সমাবেশ থেকে আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—কোটা সংস্কারে কমিশন গঠন, কোটা পূরণ না হলে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, একাধিকবার কোটা সুবিধা বন্ধ এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
আন্দোলনের আরেক মুখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, ৫ জুন বিকেলে হাইকোর্টের রায় দেখেই প্রতিবাদের সূচনা করেন। তিনি বলেন, “এটি ছিল ২০১৮ সালের অর্জন মুছে ফেলার প্রচেষ্টা।”
আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দমনপীড়নের অভিযোগও ওঠে। অনানুষ্ঠানিক হিসেবে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে এর মধ্যেই আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে রূপ নেয়, যা ‘জুলাই বিদ্রোহ’ হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু একটি ছাত্র আন্দোলন নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন।









